হিমন্তের স্ত্রীর পাসপোর্ট নিয়ে কংগ্রেসের তোপ ও পাক ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ

হিমন্তের স্ত্রীর পাসপোর্ট নিয়ে কংগ্রেসের তোপ ও পাক ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার পাসপোর্ট এবং বিদেশে সম্পত্তি নিয়ে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘এআই ফটোশপড’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এবং গৌরব গগৈ পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের সরবরাহ করা জাল নথির ওপর ভিত্তি করে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। খেরা দাবি করেন, রিনিকি ভূঁইয়ার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা এবং মিশরের পাসপোর্ট রয়েছে। সেই সঙ্গে দুবাইয়ে সম্পত্তি এবং আমেরিকায় তাঁর মালিকানাধীন কো ম্পা নি থাকার অভিযোগও তোলা হয়, যার উল্লেখ নির্বাচনী হলফনামায় নেই বলে দাবি কংগ্রেসের। খেরা প্রশ্ন তোলেন, ভারত যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্ব সমর্থন করে না, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী কীভাবে বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন?

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা জবাবে জানান, দুবাইয়ের যে পাসপোর্টের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত এক পাকিস্তানি ব্যক্তির। কংগ্রেস সেটিতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর নাম ও ছবি বসিয়েছে। গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমেও এই পাসপোর্টগুলো জাল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হিমন্তের দাবি, গত ১০ দিনে পাকিস্তানের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আসাম নির্বাচন নিয়ে একাধিক টক শো হয়েছে, যেখানে কংগ্রেসকে জেতানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত।

এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা ইতিমধ্যেই পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাল নথি ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে তিনি খেরার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানির মামলা করবেন। আইপিসি-র সংশ্লিষ্ট ধারায় এই অপরাধের সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেস তাদের অভিযোগে অনড় রয়েছে। গৌরব গগৈ দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছেন। আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ঠিক আগে এই পাসপোর্ট বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী ৯ এপ্রিল আসামের ১২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এর আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই পুরো ঘটনাকে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার একটি বড় ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *