সিএসকের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন রজত পাটিদার, ভাঙলেন শচীন তেন্ডুলকরের দীর্ঘদিনের রেকর্ড

আইপিএলের মঞ্চে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে অনন্য নজির গড়লেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বা আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদার। রবিবার মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে ৪৩ রানে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। এই জয়ের ফলে অধিনায়ক হিসেবে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে নিজের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখলেন পাটিদার। টানা তিনবার সিএসকে-কে হারিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন বর্তমান ক্রিকেটে আরসিবি-র দাপট।
২০২৫ সালের আইপিএলে পাটিদারের নেতৃত্বে দুবার এবং চলতি মরসুমে একবার চেন্নাইকে কুপোকাত করল আরসিবি। আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে নিজের নেতৃত্ব জীবনের শুরুতে চেন্নাইয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে টানা তিনবার জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। এই কৃতিত্ব এর আগে হাতেগোনা কয়েকজন কিংবদন্তির দখলে ছিল। পাটিদারের এই অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা আরসিবি সমর্থকদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রজত পাটিদার ভেঙে দিয়েছেন ক্রিকেটের ঈশ্বর শচীন তেন্ডুলকরের বহু পুরোনো একটি রেকর্ড। ২০০৮-০৯ মরসুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে শচীন চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে টানা দুবার জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। পাটিদার এবার টানা তিনটি ম্যাচে জয় হাসিল করে ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিয়েছেন। ঘরোয়া লিগে সিএসকে-র বিরুদ্ধে এই টানা সাফল্যের তালিকায় এখন পাটিদারের আগে কেবল তিনজন নামজাদা অধিনায়ক রয়েছেন।
ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায় শেন ওয়ার্ন (২০০৮), অনিল কুম্বলে (২০০৯) এবং জর্জ বেইলি (২০১৪) অধিনায়ক হিসেবে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে টানা তিনটি জয় পেয়েছিলেন। পাটিদার এই এলিট ক্লাবে চতুর্থ সদস্য হিসেবে নাম লেখালেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী শুরুতেই চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে টানা জয়ের তালিকায় হার্দিক পান্ডিয়া বা ময়াঙ্ক আগরওয়ালদের মতো নাম থাকলেও পাটিদারের অবস্থান এখন শীর্ষে।
সব মিলিয়ে আরসিবি টানা চতুর্থবারের মতো হারাল চেন্নাইকে। এর আগে ফাফ ডু প্লেসির অধিনায়কত্বে ২০২৪ সালে একবার জিতেছিল বেঙ্গালুরু। তারপর থেকেই দলের দায়িত্ব পাটিদারের হাতে আসার পর জয়ের গতি থামেনি। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও কয়েক গুণ বেড়ে গেল আরসিবি শিবিরের। অন্যদিকে পাটিদারের এই নেতৃত্ব দেওয়ার ভঙ্গি আগামী দিনে বেঙ্গালুরুকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।