ভোটের ময়দানে বাধা কাটল স্বপ্না বর্মনের, কমিশনের সবুজ সংকেত পেলেন রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় স্বস্তি পেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হেপ্টাথলিট তথা রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর তাঁর প্রার্থিপদ নিয়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় আইনি সংশয় দূর করল নির্বাচন কমিশন। ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা বিশেষ শংসাপত্রে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী স্বপ্না বর্মনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা নেই।
মূলত রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং তড়িঘড়ি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের আলিপুরদুয়ার জংশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৭ মার্চ তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বরখাস্তের নির্দেশের কারণেই স্বপ্নার ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী শিবির।
তবে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বস্ততার মতো গুরুতর কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার খর্ব করা যায় না। উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না বর্মন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৬ মার্চ রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ সেই সময় তদন্ত চলাকালীন ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, রেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে স্বপ্নার প্রার্থিপদ নিয়ে জটিলতা বাড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে। তবে কমিশনের এই চূড়ান্ত ছাড়পত্র মেলায় রাজগঞ্জ কেন্দ্রে অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত এই খেলোয়াড়ের প্রচারের পথ এখন সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক। কমিশনের এই শংসাপত্রের প্রতিলিপি ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং রেলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজগঞ্জের নির্বাচনী লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলল।