গেমের নেশা নাকি মরণফাঁদ! PUBG-র টাস্ক অপূর্ণ থাকায় আত্মঘাতী পদক্ষেপ কিশোরের

মোবাইল গেমের নেশা যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক নৃশংস উদাহরণ সামনে এল উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায়। জনপ্রিয় অনলাইন গেম পাবজি (PUBG)-র টাস্ক পূরণ করতে না পারা এবং বড় ভাইয়ের বকুনি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক কিশোর। ঘর থাকা কর্পূরের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলায় বর্তমানে ওই কিশোর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে বাগপতের খেকড়া থানা এলাকার রটৌল কসবা গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামদ নামের ওই কিশোর দীর্ঘদিন ধরে পাবজি গেমের নেশায় আসক্ত ছিল। দিনরাত মোবাইলে মগ্ন থাকায় তার পরিবারের সদস্যরা যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন। ঘটনার দিন সে গেমের একটি বিশেষ টাস্ক সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। পর পর তিনটি ধাপ সফলভাবে পার করলেও চতুর্থ ধাপে পৌঁছানোর আগেই বাধে বিপত্তি।
ঠিক সেই সময় শামদের বড় ভাই তাকে গেম বন্ধ করার কথা বলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বারণ করা সত্ত্বেও শামদ কর্ণপাত না করায় তার বড় ভাই রাগের মাথায় তাকে একটি থাপ্পড় মারেন এবং মোবাইলটি কেড়ে নেন। গেমের গুরুত্বপূর্ণ টাস্ক অধরা থেকে যাওয়া এবং ভাইয়ের কাছে মার খাওয়ার অপমান সহ্য করতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নেয় ওই কিশোর। ক্ষোভে বাড়িতে রাখা কর্পূরের গোলগুলি সে গিলে ফেলে।
কিছুক্ষণ পরেই শামদ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার ক্রমাগত বমি শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে তড়িঘড়ি স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডক্টর শাহিদ জানান, কিশোরটিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। পরিবারের জবানবন্দি অনুযায়ী, গেম খেলতে বাধা দেওয়ায় সে মানসিক অবসাদে ভুগছিল এবং তার ফলেই এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এই ঘটনা আবারও স্মার্টফোনের প্রতি কিশোর-কিশোরীদের অত্যধিক আসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।