মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর আত্মীয়দের কোটি টাকার বরাত, দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে এক ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে বেআইনিভাবে একের পর এক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (সিবিআই) প্রাথমিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে যে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের বরাত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে, সিবিআই সেই সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখবে। মূলত ৪ থেকে ৬ নম্বর প্রতিপক্ষের অনুকূলে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিই এই তদন্তের কেন্দ্রীয় বিষয় হবে। তবে শীর্ষ আদালত এও জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরের কোনো সন্দেহজনক লেনদেন থাকলে সিবিআই চাইলে সেটিরও তদন্ত করতে পারবে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ সরকারকে এই রায়ের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মুখ্য সচিবকে অবিলম্বে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যিনি সিবিআই-এর সাথে সমন্বয় রক্ষা করবেন এবং তদন্তের স্বার্থে সমস্ত রেকর্ড ও নথিপত্র সময়মতো হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
এই মামলার মূল ভিত্তি হলো জনস্বার্থে করা একটি পিটিশন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে অরুণাচল প্রদেশে গণপূর্ত বিভাগের (PWD) বিভিন্ন লাভজনক প্রকল্পের কাজ সুপরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বচ্ছতার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেই অভিযোগকারীদের দাবি।
সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই-কে আগামী ১৬ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রাথমিক তদন্তের একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে যে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাধীন কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না। এই নির্দেশ বর্তমান সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশের প্রশাসনিক স্তরে এই রায়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। বিচার বিভাগীয় এই নির্দেশের ফলে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির শিকড় উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ। আদালতের এই পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে একটি দৃষ্টান্তমূলক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।