ক্যানসার চিকিৎসায় অশনি সংকেত, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ পড়লেন ৩০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PMJAY) বা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকা থেকে দেশজুড়ে প্রায় ৩০০ জন ক্যানসার বিশেষজ্ঞকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মূলত ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) স্বীকৃত ডিগ্রি না থাকার অজুহাতে এই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া চিকিৎসকদের অনেকেরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ফেলোশিপ বা প্রশিক্ষণ রয়েছে, যা বর্তমান সরকারি নিয়মে বৈধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, কয়েক দশক আগে যখন ক্যানসার চিকিৎসার প্রথাগত কোর্স ছিল না, তখন ফেলোশিপই ছিল প্রশিক্ষণের একমাত্র মাধ্যম।
প্যানেল থেকে বাদ পড়া চিকিৎসকদের তালিকায় অনেক নামী ব্যক্তিত্ব, বিভাগীয় প্রধান এবং সিনিয়র সার্জনও রয়েছেন। বর্তমানে দেশে মাত্র ৪,০০০ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যার অর্থ প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক। এই স্বল্পসংখ্যক জনবলের মধ্য থেকে একযোগে ৩০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরকারি প্রকল্পের বাইরে রাখায় পরিষেবার ঘাটতি আরও প্রকট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলোতে। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার রোগীরা যারা মূলত আয়ুষ্মান কার্ডের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে পিজি বা এমডি ডিগ্রির পরেও চিকিৎসকরা দীর্ঘমেয়াদী ফেলোশিপের মাধ্যমেই অস্ত্রোপচার ও জটিল চিকিৎসার হাতেখড়ি নেন।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই জটিল পরিস্থিতিতে সরকার ও চিকিৎসক মহলের মধ্যে সংঘাত ক্যানসার রোগীদের জন্য বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করছে। একদিকে যেমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আকাল বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গরিব মানুষ। এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে ক্যানসার মোকাবিলায় ভারত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।