অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কুমির ও বিষধর সাপ নামানোর পরিকল্পনা বিএসএফের

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কুমির ও বিষধর সাপ নামানোর পরিকল্পনা বিএসএফের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং পাচার রুখতে অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের নদীমাতৃক ও জলাভূমি এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ রুখতে এবার কুমির ও বিষধর সাপের মতো প্রাকৃতিক বাধা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিএসএফ সূত্রের খবর, যে সকল দুর্গম স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। যদিও বিষয়টি বর্তমানে প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে, তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বাহিনীর অন্দরে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা চলছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি দ্বারা বেষ্টিত। এই খোলা সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা বিএসএফের কাছে দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোন, ইনফ্রারেড ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহার করা সত্ত্বেও অনেক সময় নজরদারি এড়ানো সম্ভব হয়। তাই প্রাকৃতিক পাহারাদার হিসেবে কুমির ও সাপ মোতায়েন করার মাধ্যমে এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল গড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএসএফ আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই এমন উপযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে যেখানে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর এই কঠোর মনোভাবের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক পাচার ও অনুপ্রবেশের ঘটনা। চলতি বছরেই নদিয়া সীমান্তে কোটি টাকার সোনা উদ্ধার এবং মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, নদিয়া জেলায় বিএসএফের অভিযানে ইতিপূর্বে অস্ত্র ও মাদকসহ চোরাকারবারিদের আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করতে বাহিনীর এই নতুন কৌশল চোরাচালানকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবেশ ও বাস্তব প্রেক্ষাপট কতটা অনুকূল হবে, তা নিয়ে বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *