লাদেন নিধনে যুক্ত নেভি সিল টিম ৬-এর দুঃসাহসিক অভিযান ইরানে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিমান থেকে পাইলট উদ্ধার
ইরানের অভ্যন্তরে ভেঙে পড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করল আমেরিকার বিশেষ সামরিক বাহিনী। জাগ্রোস পর্বতমালায় আটকে পড়া ওই পাইলটকে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর এলিট কমান্ডো ইউনিট ‘নেভি সিল টিম ৬’। উল্লেখ্য, এই সেই বিশেষ বাহিনী যারা ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে খতম করার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিল। ৩ এপ্রিল একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানকে ইরান গুলি করে নামানোর পর এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
বিপজ্জনক এই অভিযানে আমেরিকা তাদের সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেছিল। সূত্রের খবর, আহত পাইলট কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ পর্বতমালার প্রায় ৭,০০০ ফুট উচ্চতায় একটি ফাটলে লুকিয়ে ছিলেন। তাকে খুঁজে বের করতে ইরান পুরস্কার ঘোষণা করলেও মার্কিন গোয়েন্দা ও কমান্ডোদের তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। এই উদ্ধারকার্যে শতাধিক বিশেষ সেনা, একাধিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত মহাকাশ ও সাইবার গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সিআইএ অত্যন্ত চতুরতার সাথে ইরানি অনুসন্ধানকারী দলগুলোকে বিভ্রান্ত করতে একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ পরিচালনা করে।
অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইসফাহান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ইরানের ভেতরেই একটি জনমানবহীন বিমানঘাঁটি। সেখানে দুটি এমসি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং এমএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছিল। ২০১১ সালের লাদেন নিধনের সেই বিখ্যাত ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’ এর মতো এখানেও মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নিখুঁত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হয়। শত্রু শিবিরের ভেতরে ঢুকে নিজেদের পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পেন্টাগন একটি বিরাট সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত নিশানার মাধ্যমে নেভি সিল টিম ৬ আবারও প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশেষ বাহিনী।