মেয়ের পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় মাকে নৃশংস মারধর ও মৃত্যুর অভিযোগে রণক্ষেত্র হাবড়া

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় মেয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় মাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতার নাম মিনু শীল (৫৫)। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর ছোট মেয়ে শ্রাবণী শীল এবং তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে শ্রাবণী, তার প্রেমিক সুমন গুহ এবং সুমনের মা সহ কয়েকজন মিলে মিনু দেবীর ওপর চড়াও হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে বারাসাত মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ পরিবার ও প্রতিবেশীরা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। সোমবার এই অবরোধের জেরে ব্যস্ততম যশোর রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাবড়া ও অশোকনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে প্রায় আধঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার বড় মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রাবণী শীল ও সুমন গুহ সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও তাদের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।