চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে সেরা সাহসিকতার শিরোপা জিতল আমির খানের সিতারে জমিন পার

মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত জমকালো ‘চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর মঞ্চে বিশেষ সম্মান ছিনিয়ে নিল আমির খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সিতারে জমিন পার’। রবিবার রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘সাহসিকতার জন্য সিনেমা’ বিভাগে পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে ছবিটি। পরিচালক আরএস প্রসন্না এবং ছবির অন্য কলাকুশলীদের হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি তুলে দেন বলিউড নির্মাতা করন জোহর ও প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গ্রুপের এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের দিকপাল ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম সঞ্চালক সুনীল গ্রোভার ছবিটির প্রভাব নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য পেশ করেন। তিনি জানান, এই চলচ্চিত্রটি সমাজের মূল ধারার বাইরে থাকা মানুষের জীবনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে। সহমর্মিতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার যে বার্তা এই সিনেমা দিয়েছে, তা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পুরস্কার গ্রহণ করে পরিচালক আরএস প্রসন্না এই সাফল্য ছবির অভিনেতা এবং আমির খানের প্রতি উৎসর্গ করেন। আমির খানকে একজন দক্ষ প্রযোজক ও সুপারস্টার হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি জানান, ছবির বিশেষ অভিনেতাদের কাছ থেকেই তিনি সাহসের প্রকৃত অর্থ শিখেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘সিতারে জমিন পার’ ছবিতে অটিজম ও ডাউন সিনড্রোমের মতো নিউরোডাইভার্জেন্ট অবস্থার দশজন প্রতিভাবান অভিনেতা মুখ্য ভূমিকায় কাজ করেছেন। তাঁদের অনন্য অভিনয় প্রতিভাকে কুর্নিশ জানাতেই এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ভারতের অন্যতম স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য সম্মান হিসেবে পরিচিত। স্ক্রিন অ্যাকাডেমির ৫৩ জন বিশিষ্ট সদস্যের স্বাধীন ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
এই সিলেকশন প্যানেলে বিদ্যা বালান, রাজকুমার হিরানি, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জন আব্রাহামের মতো দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা যুক্ত ছিলেন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও একাডেমিক দৃঢ়তা বজায় রেখে পুরস্কারটি প্রদান করা হয়েছে। ‘সিতারে জমিন পার’-এর এই জয় আবারও প্রমাণ করল যে, সৃজনশীল শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঠিক মেলবন্ধন ঘটলে তা সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়। আমিরের এই প্রজেক্টটি এখন চলচ্চিত্র মহলে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।