মালদা কাণ্ডে এনআইএ-র সাঁড়াশি চাপ, ৪০ বিএলও-কে তলব করে তদন্তে নয়া মোড়

মালদায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় তদন্তের রাশ শক্ত করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ৪০ জন বিএলও-কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। যার মধ্যে ২২ জনকে রবিবার মালদহের অস্থায়ী কার্যালয়ে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার দিন কীভাবে জনতা একত্রিত হয়েছিল এবং কারা হামলার উসকানি দিয়েছিল, তা জানতে তিনটি পৃথক ভাগে ভাগ হয়ে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ-র বিশেষ দল।
তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা রবিবার পুনরায় মোথাবাড়ি বিডিও কার্যালয়ে হানা দেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোফাক্করুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে এনআইএ। স্থানীয় সূত্রে খবর, সরকারি কাজের মাঝপথে এমন বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মালদা কাণ্ডের পাশাপাশি কলকাতার নির্বাচন কমিশন (সিইও) অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে এক মহিলা বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তৃণমূল সমর্থিত ‘বিএলও অধিকার সুরক্ষা কমিটি’র সদস্য তনুশ্রী মোদক ভট্টাচার্যকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপের অজুহাতে কমিশনের দপ্তরের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। পুলিশি নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তদন্তে সহযোগিতা না করলে বা তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কাজের চাপে সহকর্মীদের আত্মহত্যার অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলনে সরব এই বিএলও সংগঠন। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে এই সংগঠনের কর্মীদের হাতাহাতি ও অশান্তি হয়। সেই সময় তনুশ্রী মোদক ভট্টাচার্য বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। সব মিলিয়ে মালদা থেকে কলকাতা, বিএলও-দের আন্দোলন ও আইনি টানাপোড়েনে উত্তাল রাজ্যের প্রশাসনিক মহল।