চাঁদের অন্ধকার পিঠে আর্টেমিস মহাকাশচারীরা বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ

নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস অভিযানের মহাকাশচারীরা এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চলেছেন। সোমবার রাত ২৩:৪৭ বিএসটি-তে তাদের মহাকাশযানটি যখন চাঁদের বিপরীত পৃষ্ঠে প্রবেশ করবে, তখন পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে সব ধরনের রেডিও এবং লেজার সংকেত। প্রায় ৪০ মিনিটের এই দীর্ঘ নীরবতায় চার মহাকাশচারী মহাকাশের অনন্ত অন্ধকারে সম্পূর্ণ একা থাকবেন। চাঁদের বিশাল ভূখণ্ড মহাকাশযান ও হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের মধ্যে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করায় এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হবে।
এই নীরব মুহূর্তকে মহাকাশচারীরা এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অভিযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভারের মতে, এই সময়টি বিশ্ববাসীকে একসূত্রে বাঁধার এবং শুভকামনা ভাগ করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ। উল্লেখ্য, ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় মাইকেল কলিন্সও একই ধরনের একাকীত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। কলিন্স তার স্মৃতিচারণায় জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর সাথে ৪৮ মিনিটের সেই বিচ্ছিন্নতা তাকে এক ধরনের শান্তি ও স্থিরতা এনে দিয়েছিল। আর্টেমিস ক্রুরাও এই সময়ে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তোলা এবং ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন।
পৃথিবীতে এই ব্ল্যাকআউট বা সংকেতহীন সময়টি নাসা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য অত্যন্ত উত্তেজনার হবে। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান ট্র্যাক করছে। স্টেশনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট কসবি জানান, মহাকাশযানটি চাঁদের আড়ালে গেলে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, পুনরায় সংকেত পাওয়ার মুহূর্তটি হবে চরম আনন্দের। এটি নিশ্চিত করবে যে মহাকাশচারীরা সুরক্ষিত আছেন এবং তাদের লক্ষ্যপানে সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।
ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে এই ধরনের যোগাযোগ বিভ্রাট দূর করার পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ‘মুনলাইট’-এর মতো প্রকল্পগুলো চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ করছে, যাতে চাঁদের যেকোনো প্রান্ত থেকে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়। আপাতত আর্টেমিস নভোচারীদের জন্য এই ৪০ মিনিট হবে ইতিহাসের এক ব্যক্তিগত ও গভীর অভিজ্ঞতা, যার সফল সমাপ্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব।