বুথ পাহারায় কুনকি বাহিনী ভোটাধিকার ছাড়াই নির্বাচনের গুরু দায়িত্বে অরণ্যের রক্ষাকবচ

গোরুমারা জঙ্গল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক বুথে ভোট নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুত কুনকি হাতিরা। মোতিরানি, শিলাবতী, তিস্তা ও সূর্যের মতো ৩১টি কুনকি হাতি এবারও বন্যপ্রাণীর হামলা রুখতে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে। সরকারি কোষাগার থেকে তাদের ভরণপোষণের খরচ বরাদ্দ থাকলেও, এই সরকারি কর্মীদের নেই কোনো ভোটাধিকার। তা সত্ত্বেও বামনডাঙা, পানঝোড়া ও লাটাগুড়ির মতো জঙ্গলঘেঁষা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখে না তারা।
অরণ্যবেষ্টিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে সন্ধ্যা নামলেই হাতি, গন্ডার বা বাইসনের আনাগোনা বেড়ে যায়। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন দফতর আগাম নজরদারি শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গভীর জঙ্গলে ঘেরা বুথগুলোতে কুনকি হাতিদের উপস্থিতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন প্রায় আসাম্ভব। গত নির্বাচনগুলোর মতো এবারও বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে প্রবেশ রুখতে এই হাতিরা বনকর্মীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা এখনো না পৌঁছালেও বনকর্মীরা রুটিন নজরদারির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জঙ্গলের ভেতরে যে কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে কুনকিরা সদা তৎপর থাকে। ভোটাধিকারহীন এই নীরব কর্মীরাই মূলত বিধানসভা নির্বাচনের দিনে বনাঞ্চলের ভোটার ও বুথ কর্মীদের প্রধান রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে।