ইরানকে ‘নরক’ দেখানোর হুমকিতে ঘরেই কোণঠাসা ট্রাম্প, নিজের দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে

ইরানকে ‘নরক’ দেখানোর হুমকিতে ঘরেই কোণঠাসা ট্রাম্প, নিজের দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করে এবার নিজ দেশেই তীব্র রাজনৈতিক তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ না তুললে ইরানকে ‘নরকে পাঠানোর’ যে হুমকি তিনি দিয়েছেন, তাকে ঘিরেই উত্তাল ওয়াশিংটন। বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতারাও ট্রাম্পের এই যুদ্ধনীতি ও ব্যক্তিগত আচরণের কড়া সমালোচনা শুরু করেছেন। মার্কিন আইনসভার সদস্য ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের মতে, কৌশলগতভাবে এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য একটি বড় ব্যর্থতা হতে চলেছে।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, ট্রাম্প যখন ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হওয়ার দাবি করছেন, তখন বাস্তবে ইরানেই মার্কিন সেনারা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেনেটর চাক স্কুমার ট্রাম্পের সমাজমাধ্যমের আচরণকে ‘উন্মাদনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি কানেকটিকাটের সেনেটর ক্রিস মারফি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবিও তুলেছেন। তাদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ট্রাম্পের সমালোচনা করতে ছাড়েননি তাঁর নিজের দলের নেত্রী মারজোরি টেলর গ্রিনও। তিনি ট্রাম্পের আচরণকে ‘পাগলামো’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জ়োলফাঘারি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সংঘাত বাড়লে গোটা পশ্চিম এশিয়াই ট্রাম্পের জন্য নরকে পরিণত হবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন দেশের ভেতরে ও বাইরে নজিরবিহীন চাপের মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *