ভোট দিতে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ীরা, তৃণমূল না বিজেপি কার পাল্লা ভারী

পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিক ও পেশাজীবীদের ঘরে ফেরার ঢল নেমেছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের জলন্ধর ও অমৃতসর থেকে কলকাতাগামী ট্রেনগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ বঞ্চনা আর প্রতিকূলতা পেরিয়েও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পরিবারসহ বাংলায় ফিরছেন সুরজিৎ মানিক বা সন্তোষদের মতো অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক। জলন্ধর সিটি রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম হাহাকার, তবুও নাছোড়বান্দা ভোটাররা যে কোনও উপায়ে পৌঁছাতে চান নিজেদের বুথে।
এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে পরিযায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে এবার সমানে সমানে টক্কর হবে। অনেক যাত্রীই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজেদের খরচেই তাঁরা ফিরছেন, কেউ তাঁদের টিকিট স্পনসর করেনি। কারও মতে, গ্রামাঞ্চলে শাসক দলের সংগঠন এখনও অপরাজেয়। আবার অন্য অংশের দাবি, পরিবর্তনের হাওয়ায় এবার বাংলায় পদ্ম ফুটতে পারে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা অনেকের মনে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা তাঁদের দ্রুত বাড়ি ফিরতে বাধ্য করছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২৯ এপ্রিলের মহাযুদ্ধে এই পরিযায়ী ভোটব্যাঙ্ক বড় নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। আগে ভোটদান নিয়ে ভিনরাজ্যে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে যে অনীহা দেখা যেত, এবার তা উধাও। অমৃতসর থেকে কলকাতাগামী ট্রেনের কামরায় রাজনৈতিক তর্জা এখন তুঙ্গে। একদিকে যেমন আইনজীবীরা বলছেন বিজেপির লড়াই এবার দেখার মতো হবে, ঠিক তেমনই চিন্ময়ী পালের মতো প্রবীণদের বিশ্বাস, শাসক দলই ফের ক্ষমতায় আসবে। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা কার পক্ষে যায়, তা নিয়ে গোটা রাজ্যের নজর এখন মে মাসের ফলাফলের দিকে।