যুদ্ধ থামলেও কমবে না জ্বালানির দাম, কেন অপরিশোধিত তেলের বাজার অগ্নিগর্ভ

পশ্চিম এশিয়ায় মাসাধিককাল ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল পিছু ৬০–৭০ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-র মতে, যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
তেলের দাম চড়া থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট বা হরমুজ প্রণালী ইরান কর্তৃক কার্যত বন্ধ রাখা। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়। বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের ফলে শিপিং ও বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং তেল উত্তোলন পরিকাঠামোর ক্ষতি হলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো সংস্কার করে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কয়েক মাস বা বছরও লেগে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের ক্ষমতাও বর্তমানে সীমিত। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। এই সংকট শুধু জ্বালানির দামে সীমাবদ্ধ নেই; পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সার ও রাসায়নিক শিল্পের ওপর চাপ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি ও উৎপাদন শিল্পে, যা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জাগিয়ে তুলছে। সামগ্রিকভাবে, নিকট ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের স্বস্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।