ডায়নোসরের রক্ত পান করা মশার ১০ কোটি বছরের রহস্য ফাঁস

মিয়ানমারের কাচিন অঞ্চলে প্রায় ১০ কোটি বছর আগের এক বিরল মশার জীবাশ্ম আবিষ্কার করে বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন গবেষকরা। জার্মানির লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা অ্যাম্বারের (গাছের শক্ত রজন) মধ্যে আটকে থাকা একটি মশার লার্ভা খুঁজে পেয়েছেন। এই জীবাশ্মটির বয়স আনুমানিক ৯৯ মিলিয়ন বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এই লার্ভাটিকে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি ও গণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘Cretosabethes primaevus’। মেসোজোয়িক যুগের এই নিদর্শনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে এই যুগ থেকে কেবল পূর্ণবয়স্ক মশার জীবাশ্মই মিলেছিল। এটিই অ্যাম্বারে সংরক্ষিত পাওয়া প্রথম কোনো মশার লার্ভা যা বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রাচীন লার্ভার শারীরিক গঠন বর্তমান সময়ের আধুনিক মশার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। জীববিজ্ঞানী আন্দ্রে আমারাল জানান, মশার উৎপত্তি জুরাসিক যুগে হলেও এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, কোটি কোটি বছর আগেই মশারা বিভিন্ন প্রজাতিতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ১০০ মিলিয়ন বছর পেরিয়ে গেলেও মশার লার্ভার মূলে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সাধারণত মিয়ানমারের অ্যাম্বারে মাকড়সা, মৌমাছি বা পিঁপড়ের মতো স্থলজ প্রাণীর জীবাশ্ম বেশি দেখা যায়। তবে জলে বসবাসকারী লার্ভার এমনভাবে সংরক্ষিত হওয়া অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। সম্ভবত গাছের রজন কোনো ছোট জলাশয়ে পড়ে লার্ভাটিকে আটকে ফেলেছিল, যা আজ বিজ্ঞানের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সাবেথিনি গোষ্ঠীর মশারা সাধারণত গাছের কোটরে জমে থাকা জলে বংশবৃদ্ধি করে। গবেষকদের মতে, এই প্রাচীন প্রজাতিটিও একই ধরনের পরিবেশে বাস করত। কোটি কোটি বছর ধরে নিজেদের অস্তিত্ব ও শারীরিক গঠন অপরিবর্তিত রেখে মশারা কীভাবে টিকে আছে, সেই বিবর্তনীয় রহস্যই এখন গবেষণার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সম্পূর্ণ গবেষণাটি সম্প্রতি ‘Gondwana Research’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।