নর্থ সিকিমে প্রবল ধস, লাচেন যাওয়ার পথে আটকে ৮০০ পর্যটক, জারি হেল্পলাইন

নর্থ সিকিমে প্রবল ধস, লাচেন যাওয়ার পথে আটকে ৮০০ পর্যটক, জারি হেল্পলাইন

উত্তর সিকিমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ব্যাহত পর্যটন। মঙ্গন জেলার চুংথাং যাওয়ার পথে ভয়াবহ ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লাচেন ও চুংথাং সংযোগকারী প্রধান রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় রবিবার থেকে সেখানে আটকা পড়েছেন ৮০০-র বেশি পর্যটক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পর্যটকদের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে সিকিম প্রশাসন।

বর্তমানে গ্যাংটক ও পাকইয়ং জেলার রাস্তাঘাট স্বাভাবিক থাকলেও মঙ্গনের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশেষ করে চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে তারামচু সেতুর কাছে রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে উত্তর সিকিমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ লাচেনে যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করতে হচ্ছে পর্যটকদের। তবে স্বস্তির খবর এই যে, লাচুং বা ইয়ুমথাং যাওয়ার পথ এখনও খোলা রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবল তুষারপাতের কারণে জিরো পয়েন্ট এবং গুরুদংমার থেকে ডংকিলা যাওয়ার পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বরফ সরানোর কাজ শুরু করেছে। আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের সহায়তার জন্য সিকিম সরকার দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। যেকোনো প্রয়োজনে পর্যটকরা ৯৯০৭৯৫৬৭০৫ অথবা ০৩৫৯২২৮১০০৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

পাশাপাশি, গ্যালশিং জেলাতেও আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত যান চলাচলের সময়সূচিতে বড় বদল আনা হয়েছে। ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টা, বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২:৩০ থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সংস্কার কাজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে পর্যটকদের স্থানীয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক আপডেট এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি রাস্তায় যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে, তাই নিরাপত্তার খাতিরে সরকারি নির্দেশিকাগুলো গুরুত্ব সহকারে পালন করা বাঞ্ছনীয়। উত্তর সিকিমের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *