পর্ণশ্রীকাণ্ডে বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ৬

বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় বিজেপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ওই নির্দিষ্ট ঘটনার তদন্তে নেমে বেহালার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পর্ণশ্রী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার দুপুরে। অভিযোগ ওঠে, বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালান। শুধু কার্যালয় ভাঙচুরই নয়, সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুই শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় বাদানুবাদ শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা চলছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই ফুটেজে তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গে ৫-৬ জন অনুগামীকে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ এই ধরপাকড় শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কমিশনের কড়া নির্দেশের পরেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ময়দানে নামে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে যে কোনো ধরণের অশান্তি রুখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কোনও শিথিলতা দেখানো হয়নি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গ্রেফতারির প্রেক্ষিতে তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ও তাঁর কর্মীদের এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে যাতে কোনো সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।