এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

দেশে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চললেও কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই। বরং বাজারের চাহিদা মেটাতে এলপিজির জোগান আরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তেল সংস্থাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুকিং বা মজুত না করেন, সেই বিষয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ঘাটতি নেই এবং নিয়মিত ব্যবধানেই গ্রাহকদের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বাজারে ৫ কেজি ওজনের ছোট এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা ও বিক্রি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এই ছোট সিলিন্ডারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ২৩ মার্চ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে প্রায় ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে, কেন্দ্র ছোট সিলিন্ডারের মাধ্যমে সাধারণের চাহিদা পূরণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

গ্যাস বিক্রির এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ বজায় ছিল গত ৪ এপ্রিলও। তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ওই একদিনেই দেশজুড়ে ৯০ হাজারের বেশি ছোট এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সরবরাহ প্রমাণ করে যে, আপৎকালীন বা নিয়মিত চাহিদা মেটাতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জোগান পর্যাপ্ত থাকায় বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টগুলোতেও সিলিন্ডারের কোনো অভাব দেখা দেয়নি।

পরিশেষে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি নিয়ে কালোবাজারি বা কৃত্রিম অভাব তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। ডিস্ট্রিবিউটরদের মজুত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন কেবল প্রয়োজনীয় চাহিদার ভিত্তিতেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করেন, সেই আবেদনই জানানো হয়েছে। সঠিক বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতেও রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *