সরকার এখন কমিশন এজেন্ট সব ঠিকা কাজে ৩০ শতাংশ কাটমানি নেওয়া হচ্ছে, বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

পুডুচেরির রাজনৈতিক ময়দানে ঝড় তুললেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার লসপ্যাটে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ আনেন। রাহুলের দাবি, বর্তমান সরকার জনগণের সেবকের পরিবর্তে ‘কमीশন এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি সরকারি ঠিকা বা কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সরব হন।
নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান যে, পুডুচেরির বর্তমান সরকার স্থানীয় মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রশাসন আসলে দিল্লি থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপরাজ্যপালের শাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুডুচেরিতে কোনো রাজার শাসন চলবে না। কংগ্রেস এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে এখানকার মানুষ নিজেরাই নিজেদের সুন্দর রাজ্য পরিচালনা করতে পারেন।
এদিনের সভা থেকে রাহুল গান্ধী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আবগারি লাইসেন্স প্রদান নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের হাজারো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা এই রাজ্যকে পুঁজিপতিদের সম্পত্তিতে পরিণত করতে চাইছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারাইকাল অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই আদানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আগামী ৯ এপ্রিল পুডুচেরির ৩০টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রাহুলের এই আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্নীতি এবং বহিরাগত শাসনের অভিযোগ তুলে তিনি মূলত স্থানীয় আবেগ ও অধিকারের বিষয়টিকেই প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছেন। ভোটারদের মন জয় করতে কংগ্রেস পুডুচেরির স্বায়ত্তশাসনকেই প্রধান হাতিয়ার করছে।
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। পুডুচেরির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাহুল গান্ধীর এই সফর এবং দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।