আরএসএসের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছে বিজেপি! প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের বিজেপি সেই বটবৃক্ষের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে আজ সারা দেশে নিজস্ব শক্তিতে সেবা ও সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—তবে কি সঙ্ঘের সঙ্গে ‘ব্র্যান্ড মোদি’র কোনো সংঘাত বা দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে?
কয়েক দশক আগে লোকসভায় মাত্র দুটি আসন দিয়ে সফর শুরু করা বিজেপি অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে ক্ষমতায় এলেও, নরেন্দ্র মোদির আমলেই দল তার শক্তিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএসের ছত্রছায়ায় বিজেপির জন্ম ও উত্থান হলেও বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দল অনেকটাই স্বতন্ত্র রূপ নিয়েছে। মোদি, শাহ এবং নাড্ডাদের পরিচালনায় বিজেপি এখন আর কেবল সঙ্ঘের নীতিকথায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও নিজস্ব কৌশলে নির্বাচনী সাফল্য ছিনিয়ে আনছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর আজকের মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির মতানৈক্য এবং সঙ্ঘের বয়সসীমা সংক্রান্ত কঠোর নীতির বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ছিল। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার মাঝেই আরএসএসের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার এই বার্তা বিতর্ককে আরও উসকে দিল। যদিও দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বিভেদের কথা স্বীকার করা হয়নি, তবুও প্রতিষ্ঠা দিবসের এই ভাষণ আরএসএস ও বিজেপির চিরাচরিত সম্পর্কের সমীকরণে নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা।