বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে বাংলার রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় নাম না করেই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। এখানে হিংসাকে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই চালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে বাংলায় বিজেপির বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিশেষ দিনে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এদিনের ভাষণে মোদি কংগ্রেস জমানার অপশাসনের সমালোচনা করে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির সাফল্য তুলে ধরেন। বাংলা ও কেরল—এই দুই রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি জানান যে, দলীয় কর্মীদের ওপর ভয়াবহ হিংসা চালানো হলেও বিজেপি ভয় পেয়ে পিছু হটেনি। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী দুই ধরণের রাজনীতির তুলনা করেন। তাঁর মতে, একদিকে চলছে ক্ষমতার রাজনীতি এবং অন্যদিকে বিজেপির ‘সেবা নির্ভর’ রাজনীতি। দেশবাসী এখন ক্ষমতার রাজনীতির পতন ঘটিয়ে বিজেপির আদর্শের ওপর আস্থা রাখছে বলেই তাঁর দাবি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিষ্ঠা দিবসের এই বার্তার আড়ালে আসলে বাংলায় আসন্ন নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের নাম না নিলেও বঙ্গ বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগকেই এদিন মান্যতা দিয়েছেন তিনি। যদিও বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী জনমত পেতেই সুশাসনের এক কাল্পনিক ছবি তুলে ধরছেন মোদি। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদির এই কড়া অবস্থানকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান।