ইরানে মেয়েদের মা হওয়ার গড় বয়স কত? ১৩ বছরেই বিয়ে হলেও আসল সত্য চমকে দেবে

ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেই সেদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স এবং তাদের প্রথমবার মা হওয়ার সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান সেদেশের নারী ও মাতৃত্ব সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য সামনে এনেছে।
ইরানি সিভিল কোডের ১০৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সেদেশে মেয়েদের বিয়ের আইনি বয়স মাত্র ১৩ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৫ বছর। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বাবার সম্মতি এবং আদালতের বিচারকের বিশেষ অনুমতি থাকলে মাত্র ৮ বছর ৯ মাস বয়সেও মেয়েদের বিয়ে হওয়া সম্ভব। আইনিভাবে কম বয়সে বিয়ের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মেয়েরা মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন না।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের সিংহভাগ নারী বর্তমানে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী এই নির্দিষ্ট বয়ঃসীমার মধ্যেই প্রথমবারের মতো মা হন। ২০২৪ সালের প্রথম পাঁচ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানি মহিলাদের প্রথম মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ২৭.৪ বছর। তবে ২০২৫ সালে এই গড় বয়স কিছুটা বেড়ে ২৭.৭ বছর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে মা হওয়ার গড় বয়স ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। নগরায়ন, শিক্ষার প্রসার এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের ফলে মেয়েরা এখন দেরিতে পরিবার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। শৈশবে বিয়ের আইনি স্বীকৃতি থাকলেও আধুনিক ইরানি সমাজে সচেতনতা বাড়ছে। এর ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েরা পরিণত বয়সে পৌঁছেই মাতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইরানের বর্তমান ফার্টিলিটি রেট বা প্রজনন হার নিয়ে সরকারি মহলে তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সেদেশে প্রজনন হার ছিল প্রতি মহিলা পিছু ২.০৮। ২০২৩ সালের তুলনায় এই হার প্রায় ২২.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জন্মহারের পতন রুখতে ইরান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উৎসাহমূলক নীতি এই বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে এটি স্পষ্ট যে, ইরানে বাল্যবিবাহের আইনি কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও মা হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েরা এখন অনেক বেশি পরিণত। কিশোরী অবস্থায় মা হওয়ার প্রবণতা সেখানে খুব একটা সাধারণ নয়। বরং বিয়ের কয়েক বছর পর পরিকল্পিতভাবেই তাঁরা মাতৃত্ব গ্রহণ করছেন। আধুনিকতার ছোঁয়া এবং সামাজিক বিবর্তনের ফলে ইরানের পারিবারিক জীবনে এই পরিবর্তনগুলো ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।