৮৫০ কোটির বিমান ধ্বংস করে ইরানে মার্কিন পাইলট উদ্ধার অভিযান

ইরানে আটকে পড়া এক পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলো মার্কিন সামরিক বাহিনী। সফলভাবে পাইলটকে সরিয়ে আনা সম্ভব হলেও, অভিযানে ব্যবহৃত নিজেদেরই দুটি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা। জানা গেছে, ধ্বংস করা এমজি-১৩০জে (MC-130J) বিমান দুটির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের একটি পরিত্যক্ত ঘাঁটিতে অবতরণের পর যান্ত্রিক গোলযোগ অথবা মরুভূমির বালিতে আটকে যাওয়ার কারণে বিমান দুটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বিমানে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং গোপন নেভিগেশন ব্যবস্থা যাতে কোনোভাবেই ইরানের হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানোর সময় উন্নত প্রযুক্তি রক্ষা করতে বিমান ধ্বংস করা মার্কিন সামরিক প্রটোকলেরই একটি অংশ। এর আগেও ২০১১ সালে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় একটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার এভাবেই ধ্বংস করেছিল মার্কিন সেনা।
এদিকে, এই বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমেরিকাকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবফ এবং আইআরসিজি (IRCG)-র পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে আমেরিকার ‘করুণ পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের দাবি, অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিব্রত হওয়া থেকে বাঁচাতেই তড়িঘড়ি নিজেদের বিমান নিজেরা ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। আর্থিক ক্ষতির চেয়ে সামরিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই কৌশলকে ঘিরে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।