ইজরায়েল ও আমেরিকার এয়ার স্ট্রাইকে নিহত ইরানের গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে বড়সড় গোপন অভিযান চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। সোমবার সকালে রাজধানী তেহরানে ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি। সোমবার সংবাদমাধ্যম মারফত আইআরজিসি খাদেমির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরানের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণের জেরে এই শীর্ষ আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইজরায়েলি হামলায় তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান মহম্মদ কাজেমির মৃত্যুর পর খাদেমি এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।
মাজিদ খাদেমির মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমেরিকা বা ইজরায়েল সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের আবহে ইরানের এই শীর্ষ আধিকারিককে হারানো তেহরানের জন্য বড় ধাক্কা এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৪৫ দিনের জন্য একটি সম্ভাব্য সংঘর্ষবিরতির আলোচনা চললেও যুদ্ধের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে দর কষাকষি অব্যাহত থাকলেও সংঘাত থামার লক্ষণ স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন হুঙ্কারের পর তেহরান নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই আবহে ইরানের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান কি এই হামলার পর পাল্টা প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটে নাকি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।