যাদবপুরে বিকাশের বদলে বুদ্ধদেবই ভরসা! বিধানসভা ভোটের আগে বাম শিবিরে ভিন্ন কৌশল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সংযুক্ত মোর্চা তথা সিপিএম প্রার্থী হিসেবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, প্রচারের ময়দানে তাঁর চেয়ে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি ও স্মৃতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আলিমুদ্দিন। কলোনি এলাকার অলিতে-গলিতে লাল পতাকা লাগানো প্রচার গাড়িতে বাজছে পুরনো দিনের স্লোগান। তবে স্থানীয় ভোটারদের বড় অংশের মধ্যে বর্তমান প্রার্থীকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চাকরি বাতিলের মামলার প্রেক্ষিতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নিয়ে জনমানসে তৈরি হওয়া ক্ষোভ মেটাতেই দল ‘বুদ্ধ শরণে’ গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম কর্মীদের একাংশ মেনে নিচ্ছেন যে, বর্তমান প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে প্রতিকূলতার জেরেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বচ্ছ ইমেজকে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছরগুলিতে বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ের জেরে অনেকের কাছেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পরিচিতি ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে, যার প্রভাব পড়ছে জনসংযোগেও। সম্প্রতি নয়াবাদ এলাকায় তাঁর পথসভা চলাকালীন স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ার ঘটনাটি বাম শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের কারিগর হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অবদানকে সামনে রেখেই ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে সিপিএম।
পাল্টা আক্রমণে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারের মতে, অতীতে যাদবপুর এলাকার একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে সেখানে আবাসন তৈরি হওয়াই ছিল সিপিএমের আমলের আসল চিত্র। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের জমি বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বামেদের উন্নয়নের দাবিকে নস্যাৎ করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের দাবি, প্রয়াত নেতার ছবি ব্যবহার করেও সিপিএমের ভরাডুবি আটকানো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে বুদ্ধদেবের আবেগকে হাতিয়ার করে যাদবপুর পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বামেরা কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।