মধু চা থেকে ডাল সেদ্ধ তৃণমূল সুপ্রিমোর রোজকার ডায়েট চার্টে কী কী থাকে নিজেই জানালেন মমতা

তীব্র দাবদাহ আর ভোটের প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে কীভাবে ফিট রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই ব্যস্ততম সময়ে হোটেলের জাঁকজমকপূর্ণ খাবার এড়িয়ে অনাড়ম্বর জীবনযাত্রাতেই অভ্যস্ত তিনি। সোমবার শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে নিজের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও রুটিন নিয়ে অকপটভাবে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর দিনের শুরুটা হয় এক বিশেষ ধরনের চা দিয়ে। চায়ে চিনির বদলে ব্যবহার করেন মধু। সঙ্গে থাকে দারুচিনি ও লবঙ্গ। সকালে এই বিশেষ চা দু-কাপ খেয়েই তিনি নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। সারাদিন জনসভা ও কর্মসূচির চাপে কখনও খাওয়ার সময় পান, আবার কখনও জোটেনা। তবে বিকেলে নিয়ম করে গ্রিন টি পান করেন তিনি। প্রচারের খাতিরে মাসের দীর্ঘ সময় জেলার বিভিন্ন হোটেলে কাটাতে হলেও বাইরের তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন তিনি।
নিজের খাদ্যতালিকা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভাত বা রুটি নয়, বরং সেদ্ধ খাবারের ওপরই তিনি বেশি নির্ভরশীল। প্রতিদিনের মেনুতে থাকে চিঁড়ে-মুড়ি, ডাল সেদ্ধ এবং কোনো কোনো দিন একটি ডিম সেদ্ধ। হালকা এই আহারেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি একেবারেই ঝাল খেতে পারেন না। ঘরোয়া খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ টান থাকলেও প্রচারের চাপে দীর্ঘদিন তা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এমনকি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সত্ত্বেও নিয়মিত শরীরচর্চা ও শৃঙ্খলাই তাঁকে কর্মক্ষম রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পেশাদার জীবনের ব্যস্ততার মাঝে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়ার এই মন্ত্রই তৃণমূল সুপ্রিমোর চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, ‘কর্মই ধর্ম’—আর এই আদর্শকে পাথেয় করেই সারাদিন মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। সাধারণ জীবনযাপন এবং পরিমিত আহারই তাঁর ফিটনেসের আসল রহস্য। এই গরমে প্রচারের ধকল সামলাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাধারণ ডায়েট চার্ট এখন সাধারণ মানুষের কাছেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।