আকাশে-জলে-স্থলে দাপট! ভারতের এই ৬ ‘ব্রহ্মাস্ত্রে’র ভয়েই গর্তে লুকিয়ে শত্রুরা

আকাশে-জলে-স্থলে দাপট! ভারতের এই ৬ ‘ব্রহ্মাস্ত্রে’র ভয়েই গর্তে লুকিয়ে শত্রুরা

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিরিখে বর্তমান বিশ্বে ভারত এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তিগত কৌশলে ভারত এখন বিশ্বের তাবড় দেশগুলোর তুলনায় অনেকখানি এগিয়ে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শত্রুপক্ষকে কড়া জবাব দিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক ‘ব্রহ্মাস্ত্রে’র ভাণ্ডার, যা স্থল, জল ও আকাশ—তিন পথেই সমানভাবে কার্যকর।

স্থলপথের সুরক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার এবং টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক। ডিআরডিও-র তৈরি পিনাকা রকেট সিস্টেম বর্তমানে ৬৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম, যার পাল্লা ভবিষ্যতে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি ও ভারতীয় সংষ্করণে সমৃদ্ধ টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক তার বিধ্বংসী কামান ও গতিবেগের জন্য যুদ্ধের ময়দানে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

শত্রুদেশের সাঁজোয়া যান বা ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে ভারতের হাতে রয়েছে ন্যামিকা (NaMiCa)। এটি একটি উন্নত অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ক্যারিয়ার, যা নাগ মিসাইল বহন করে। এর বিশেষত্ব হলো এটি জল এবং স্থল উভয় ক্ষেত্রেই সমান পারদর্শী। এছাড়া আকাশপথে নজরদারি ও সামুদ্রিক জলসীমা রক্ষায় বোয়িং পি-৮আই বিমান বাজপাখির মতো প্রহরা দেয়। সাবমেরিন শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ—সবক্ষেত্রেই এই নজরদারি বিমান অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

জলপথে ভারতের শক্তির প্রতীক হলো আইএনএস বিক্রমাদিত্য। দেশের এই বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজটি একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম, যা সমুদ্রবক্ষে ভারতের আধিপত্য বজায় রাখে। এর পাশাপাশি ভারতের তুরুপের তাস হলো ব্রহ্মোস মিসাইল। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল শব্দের চেয়ে তিনগুণ দ্রুত গতিতে লক্ষ্যভেদ করতে পারে।

প্রতিরক্ষা খাতের এই অগ্রগতির পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতাও অত্যন্ত সুসংহত। ১৯৭৪ সালের ‘স্মাইলিং বুদ্ধ’ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালের ‘অপারেশন শক্তি’র মাধ্যমে ভারত তার পারমাণবিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে শতাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভারত কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এক শক্তিশালী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *