হিন্দুধর্ম কারও কেনা সম্পত্তি নয়, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

হিন্দুধর্ম কারও কেনা সম্পত্তি নয়, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের এই সভায় হিন্দুধর্ম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গেরুয়া শিবির মনে করে হিন্দুধর্ম কেবল তাদেরই একচেটিয়া সম্পদ, যা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি প্রশ্ন করেন, কত বছর আগে চৈতন্যদেব বাংলায় প্রেম ও ধর্মের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তখন এই শিবিরের অস্তিত্ব কোথায় ছিল? শান্তিপুরের মানুষের আবেগকে উসকে দিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন এবং বিজেপি তা দখল করতে চাইছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আরও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, দেশের লড়াইয়ের সময় এদের কোনো ভূমিকা ছিল না, বরং ইংরেজদের মদত দেওয়ার অভিযোগে তিনি প্রতিপক্ষকে বিঁধেছেন। ‘তখন কোথায় ছিলে?’—এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বিজেপিকে ‘ইংরেজদের দালাল’ বলেও আক্রমণ করেন।

বঙ্গভঙ্গ প্রসঙ্গে বিজেপিকে সরাসরি ‘শয়তান’ বলে সম্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যারা বাংলা ভাগ করার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এই অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে তিনি সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। বাংলার অখণ্ডতা রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস যে কোনো আপস করবে না, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শান্তিপুরের মঞ্চ থেকে সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি এক বিশেষ দাওয়াই দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, বাচ্চা ছেলে দুষ্টুমি করলে অভিভাবকরা যেমন শাসন করেন, তেমনই এই রাজনৈতিক অপশক্তিকে রোখার পথ হলো ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’। ভোটের বাক্সে যোগ্য জবাব দিয়ে এদের জব্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে শান্তিপুরের এই সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের অখণ্ডতা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর এই কড়া রাজনৈতিক অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *