শাড়ির আবদারে শাশুড়ি-বউমার ঘরোয়া রসায়ন, শান্তিপুরের সভা থেকে মন জিতলেন মমতা

শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে এক অনন্য ঘরোয়া মুহূর্তের কথা ভাগ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ভাষণের মাঝেই উঠে এল পরিবারের এক মিষ্টি সম্পর্কের গল্প। শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ির বিশ্বজোড়া খ্যাতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, খোদ তাঁর বাড়ির সদস্য তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে শান্তিপুরের শাড়ির আবদার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মঞ্চ থেকে হাসিমুখে জানান, শান্তিপুরে সভা করতে আসার কথা শুনেই লতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দুটি শাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মজার ছলে বলেন, তিনি এখন মিটিং করবেন না কি বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করবেন! তবে এই খুনসুটির আড়ালে যে গভীর ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন। রাজনীতির কঠিন ময়দানেও এই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি উপস্থিত সকলের নজর কেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এই আবদারকে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির বউরা তো এটুকু আশা করতেই পারেন। তাঁরা সোনা-দানা, দামী হার বা কানের দুল চান না। পয়লা বৈশাখের মতো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আগে কেবল দুটি নতুন শাড়ির আবদার জানানো খুবই সাধারণ একটি বিষয়। লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আব্দার মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন এবং তা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।
তাঁতশিল্পের প্রাণকেন্দ্র শান্তিপুরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এই শাড়ির গল্প স্থানীয় তাঁতীদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের এই টান পরোক্ষভাবে স্থানীয় হস্তশিল্পকেই উৎসাহিত করে। তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, শত ব্যস্ততা এবং রাজনৈতিক চাপ থাকলেও পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা পূরণ করা বা ছোটখাটো আবদার রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তিপুরের এই সভা কেবল রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দেয়নি, বরং তৃণমূল নেত্রীর মানবিক ও পারিবারিক সত্তাটিকেও তুলে ধরেছে। শাড়ির আবদার পূরণের এই বিষয়টি আসলে বাঙালির চিরকালীন শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কের একটি সুন্দর চিত্রকে প্রতিফলিত করে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী আবারও প্রমাণ করলেন যে, রাজধর্ম পালনের পাশাপাশি তিনি নিজের ঘরোয়া সম্পর্কগুলোর প্রতিও সমভাবে যত্নশীল এবং শ্রদ্ধাশীল।