রাজনৈতিক হিংসার সামনেও মাথা নত করেননি বিজেপি কর্মীরা, প্রতিষ্ঠা দিবসে বাংলা ও কেরলের প্রশংসা মোদীর

বিজেপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে দলের কর্মীদের অকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মীদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ এবং হিংসার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও এই দুই রাজ্যে বিজেপির কর্মীরা লড়াই জারি রেখেছেন। তারা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এদিন উঠে আসে বাংলা ও কেরলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। তিনি অভিযোগ করেন, এই রাজ্যগুলোতে হিংসাকেই ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি হলেও আদর্শের পথ থেকে কেউ বিচ্যুত হননি। কর্মীদের এই ত্যাগ ও নিষ্ঠাই দলের প্রকৃত শক্তি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠা দিবসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মোদী তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে দেশে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযান এখনও সম্পন্ন হওয়া বাকি। বিজেপি সরকার সেই লক্ষ্যপূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও জাতীয় স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন ‘এক দেশ, এক ভোট’ এবং ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’র মতো বিষয়গুলো। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং সামাজিক সাম্য বজায় রাখতে এই সংস্কারগুলি অত্যন্ত জরুরি। এই মিশনগুলো সফল করতে সরকার তার অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলি কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী দলের কার্যকর্তাদের উদ্দেশে জনকল্যাণমূলক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপির মূল ভিত্তি হলো অন্ত্যোদয় বা সমাজের প্রান্তিক মানুষের সেবা করা। বাংলা ও কেরলের উদাহরণ টেনে তিনি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করেন এবং আগামী দিনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। মোদীর এই ভাষণ কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।