ভোটের মুখে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, অযোধ্যা হয়ে রাজ্যে ঢুকছে ২০০ গাড়ি সিআরপিএফ

নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে উত্তরপ্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ জওয়ান এবং বহিরাগতদের বাংলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সোমবার এক সভায় তিনি জানান, অযোধ্যা হয়ে প্রায় ২০০টি গাড়িতে এই বাহিনী রাজ্যে প্রবেশ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন যে, দিল্লি, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ভিনরাজ্যের ভোটারদের বাসে করে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজ্য সীমান্তগুলো পরিকল্পিতভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে এই অনুপ্রবেশ সহজে করা যায় এবং প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করতে না পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। কমিশনকে ‘তোতাপাখি’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি সতর্কবার্তায় জানান, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি পরিকল্পিতভাবে বিজেপি-র জয়ের এবং তৃণমূলের হারের খবর রটিয়ে দিতে পারে। রাজ্যবাসীকে এই ধরনের প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং মনোবল ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ভোট গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সকলকে সক্রিয় থাকতে হবে। গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, কোনও অবস্থাতেই লড়াইয়ের ময়দান ছাড়া যাবে না। বহিরাগতদের প্রভাব রুখতে স্থানীয় কর্মীদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচনী আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই বয়ান শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে যখন বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নিশ্চয়তা বলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করল। আগামী দফার নির্বাচনের আগে এই তরজা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।