শান্তিপুরে মেজাজে মমতা, বিজেপিকে ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ মারার ডাক তৃণমূল নেত্রীর

সোমবার শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে তিনি সাফ জানান, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো খুন বা দাঙ্গা নয়, বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই যোগ্য জবাব দিতে হবে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, বাংলা ভাগ করার চক্রান্ত রুখতে এবং রাজনৈতিকভাবে জব্দ করতে বিজেপিকে ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ মারুন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কড়া ভাষায় নিশানা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিজেপি টাকা দিতে এলে কেউ যেন তা গ্রহণ না করেন। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একাউন্টে ‘কালো টাকা’ পাঠিয়ে পরবর্তীকালে ইডি-সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করার ছক কষা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, আগে যারা সিপিএম করত তারাই এখন বিজেপিতে গিয়েছে এবং স্রেফ টাকার লোভে কেউ কেউ দলবদল করেছে। তাঁর মতে, দলের সম্পদ কোনো নেতা নন, বরং সাধারণ কর্মীরাই।
নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতির সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, তোতাপাখির মতো সেন্ট্রাল ফোর্সকে বুথের ভেতরে রেখে এজেন্টদের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নিজের লড়াইয়ের মানসিকতা বজায় রেখে তিনি বলেন, বিজেপি মানুষের খাবার, পোশাক এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না বলে ভবিষ্যৎবাণী করার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বীরের মতো জন্ম নিয়েছেন এবং বীরের মতোই আমৃত্যু বাংলার স্বার্থে লড়াই করে যাবেন।