ভবানীপুরে হাইভোল্টেজ লড়াই, ৮ এপ্রিল মনোনয়ন পেশ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে পারদ ক্রমশ চড়ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আসনটি এখন রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়া এবং তাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আগামী ৮ এপ্রিল নিজের মনোনয়ন পেশ করার কথা ঘোষণা করে লড়াইয়ের ময়দানে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভবানীপুরে শক্তি প্রদর্শন করে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভায় অমিত শাহ দাবি করেন, ভবানীপুর আসনে জয়ী হতে পারলে রাজ্যে নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন আসবে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বিশাল মিছিল, ঢাকঢোল এবং অনুগামীদের উপস্থিতিতে এলাকা কার্যত রণমুখর হয়ে উঠেছিল। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, এই বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করে যে ভবানীপুরের মাটিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শনকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদিয়ার বেথুয়াডহরির একটি সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, শুভেন্দুর মিছিলে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, কাঁথি, পটাশপুর ও এগরা থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে এনে গেরুয়া সাজিয়ে ভিড় জমানো হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানান, মিছিলে প্রকৃত ভবানীপুরবাসী ছিলেন মাত্র ১৬ জন, বাকিরা বহিরাগত। রাজনৈতিক সৌজন্য হীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপির এই কৃত্রিম জনসমর্থনের প্রচেষ্টাকে বিঁধেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পরেই ৮ এপ্রিল তাঁর মনোনয়ন পেশের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ায় রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই ওই দিনটিকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভবানীপুরের এই লড়াই এখন কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং দুই যুযুধান শিবিরের প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে। মমতার এই ঘোষণা এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জের পর আগামী কয়েকদিন ভবানীপুর কেন্দ্র যে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।