বিজেপি অফিসে হামলার নেপথ্যে আইএসআই: ২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে নাশকতার ছক ফাঁস

গত ১ এপ্রিল চণ্ডীগড়ের সেক্টর-৩৭ এলাকায় পাঞ্জাব বিজেপি সদর দফতরের বাইরে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত নাশকতা। পাঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) গৌরব যাদব এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন, বিদেশে বসে থাকা আইএসআই হ্যান্ডলাররা স্থানীয় যুবকদের মাত্র ২ লক্ষ টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজ করিয়েছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পর্তুগাল নিবাসী বালজোত সিং এবং জার্মানিতে থাকা হরজিৎ সিং লাড্ডির নাম উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশ থেকে পরিচালিত এই মডিউলটি ভারতের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করতে একাধিক সাব-মডিউল ব্যবহার করেছিল। অভিযুক্তরা বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মেনে গ্রেনেড সংগ্রহ এবং হামলার পরিকল্পনা কার্যকর করে। ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিজেপি অফিসের বাইরে গ্রেনেড ছোড়া হলে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এটি ছিল একটি সুসংগঠিত সন্ত্রাসী প্রচেষ্টা। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত গুরতেজ সিং এবং আমানপ্রীত সিংকে হরিয়ানার রেওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমানপ্রীতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, চণ্ডীগড় পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই চক্রের সাতজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং একটি উন্নত মানের জিগানা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। ডিজিপি যাদব জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে আইএসআই এই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং ভারতে তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে নাশকতামূলক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। বর্তমানে পুলিশ এই মডিউলের আর্থিক লেনদেন এবং ভবিষ্যতের কোনো বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।