বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ ৪০০টি দেশীয় অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে ৪০০টি ‘অস্ত্র এমকে-১’ (Astra MK-1) ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে এবং এর উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL)। আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এই ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ (BVR) ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষকে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুসেনার প্রধান যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০ এমকেআই-তে (Su-30MKI) সম্পূর্ণরূপে মোতায়েন রয়েছে। তবে দ্রুত এটিকে নৌবাহিনীর মিগ-২৯কে, তেজস এমকে-১ এবং তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমানেও যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। রাশিয়ার আর-৭৭ এবং ফ্রান্সের মিকা-র মতো বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে শক্তিশালী হয়ে ওঠাই এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমার পাশাপাশি আধুনিকীকরণও সহজ হবে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুর বিমান ভারতীয় সীমান্তের কাছে আসার আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৪০০টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল আকাশযুদ্ধে ভারতকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে না, বরং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে ভারতকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পথে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের আরও উন্নত সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে ভারতের।