মোদীর সভায় শুভেন্দুর না থাকার নেপথ্যে কলকাঠি নাকি অমিতাভের, কতটা প্রভাবশালী?

ভোট ঘোষণার পর বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তুঙ্গে। কোচবিহারের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর নামে আসন বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ সেখানে উপস্থিত হলেন না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। বিজেপি সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার কাছে সঠিক সময়ে আমন্ত্রন পৌঁছয়নি বলেই তিনি এই সভায় যোগ দেননি।
শুভেন্দুর এই গরহাজিরার নেপথ্যে আঙুল উঠছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর দিকে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর ‘অঙ্গুলিহেলনেই’ দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছচ্ছে না। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর থেকে শুরু করে মনোজ টিগ্গার মতো নেতাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পর্দার আড়ালে থাকা অমিতাভ চক্রবর্তী আসলে কতটা শক্তিশালী এবং কেন বারবার তাঁর দিকেই অভিযোগের তির ধেয়ে আসছে।
মূলত আরএসএস এবং এবিভিপি-র মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে হাতেখড়ি হওয়া অমিতাভ বর্তমানে রাজ্য বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে সাংগঠনিক সাফল্য পাওয়ার পর ২০১৯ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়। বর্তমানে তিনি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবে আরএসএস এবং মূল বিজেপি সংগঠনের মধ্যে প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছেন। বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ কার্যকর করার সব দায়িত্বই তাঁর কাঁধে।
বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অমিতাভ এমন একজন নেতা যিনি প্রকাশ্যে আসতে খুব একটা পছন্দ করেন না। পর্দার আড়ালে থেকেই তিনি পুরো রণকৌশল সাজান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গভীর আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই দলের বড় সিদ্ধান্তগুলোতে তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে যখন শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন অমিতাভর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।
তবে এই অনুপস্থিতি স্রেফ সমন্বয়ের অভাব নাকি এর পিছনে গভীর কোনো সাংগঠনিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। মোদীর মঞ্চে বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতি বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কোনো নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। দলের অন্দরের এই চাপা অসন্তোষ আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।