সীমান্তে এবার সর্প দংশনের ভয়, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অভিনব পরিকল্পনা কেন্দ্রের

সীমান্তে এবার সর্প দংশনের ভয়, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অভিনব পরিকল্পনা কেন্দ্রের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেসব দুর্গম নদীপথ বা জলাভূমিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে বিষধর সাপ এবং কুমির মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক পাহারাদারদের মাধ্যমে সীমান্তে সুরক্ষার এক নিশ্ছিদ্র বলয় গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা জলাভূমি, ঘন জঙ্গল বা নদীমাতৃক হওয়ার কারণে ফেনসিং দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানে এই ‘বায়োলজিক্যাল ডিটারেন্ট’ বা জৈবিক প্রতিবন্ধক কতটা কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে বিএসএফ-এর কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অনেকটা অংশ জুড়েই ভৌগোলিক প্রতিকূলতা রয়েছে। এই ফাঁকফোকরগুলিকে কাজে লাগিয়েই মূলত অনুপ্রবেশ ও পাচারের মতো অপরাধমূলক কাজগুলি চলে। তাই যেখানে সাধারণ বেড়া দেওয়া আসাম্ভব, সেখানে বন্যপ্রাণীদের পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের বিএসএফ ইউনিটগুলো উপযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা আধুনিক নজরদারি চালানো কঠিন, সেখানে এই পরিবেশ-নির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বন্যপ্রাণীদের এভাবে ব্যবহারের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাবশত সাধারণ মানুষের প্রাণের ঝুঁকি এবং এর কার্যকারিতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও সংশয় দানা বাঁধছে।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ভারত এখন এই ধরণের উদ্ভাবনী পদ্ধতির দিকে নজর দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিকল্পনা সফল হলে সীমান্ত পাহারায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *