সোনারপুর দক্ষিণে উন্নয়নের হাতিয়ারেই বাজিমাত করতে মরিয়া লাভলি মৈত্র

সোনারপুর দক্ষিণে উন্নয়নের হাতিয়ারেই বাজিমাত করতে মরিয়া লাভলি মৈত্র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক অরুন্ধতি মৈত্র, যিনি লাভলি মৈত্র নামেই সমধিক পরিচিত, এবার মুখোমুখি হচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের। বিরোধীদের যাবতীয় কুৎসা ও কেন্দ্র বদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে লাভলি সাফ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের উন্নয়নই তাঁর প্রধান হাতিয়ার। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রক্ষা করেন বলেই আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি নিজের কাজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ ভোটারদের হাতে তুলে দিতে পারছেন।

এলাকার অনুন্নয়ন নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগকে নস্যাৎ করে বিধায়ক জানান, সোনারপুর দক্ষিণে তাঁর আমলে ব্যাপক কাজ হয়েছে। বিশেষত একটি গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার কাজ শুরু হওয়াকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিরোধীরা কেবল ভোটের সময় ‘ভোটপাখি’ হয়ে এলাকায় আসেন এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন। কিন্তু এলাকার মানুষ দিদির উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন এবং তাঁরা সঠিক বিচার করবেন বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রতিপক্ষ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণে যেতে নারাজ লাভলি মৈত্র। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে তিনি জানান, গণতান্ত্রিক লড়াই হবে ময়দানে, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার জায়গাটি অটুট থাকবে। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘মহিলাবিদ্বেষী’ ও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর অভিনয় জগত এবং গত ৫ বছর রাজনীতির আঙিনায় তিনি নিজের পরিশ্রমে পরিচিতি গড়েছেন। স্বামীর পেশাগত পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিচার করা আসলে মহিলাদের ছোট করার নামান্তর।

দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দলের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তৃণমূল প্রার্থী জানান, তৃণমূল একটি বড় পরিবার, যেখানে ছোটখাটো মান-অভিমান থাকলেও লড়াইয়ের সময় সকলে ঐক্যবদ্ধ। সব মিলিয়ে, সৌজন্যের রাজনীতি বজায় রেখে এবং উন্নয়নের খতিয়ানকে সামনে রেখেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে আত্মবিশ্বাসী সোনারপুর দক্ষিণের এই বিদায়ী বিধায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *