কন্যাসন্তান পরিবারের বোঝা, তেলেঙ্গানায় ৪ বছরের দুই যমজ মেয়েকে জলে ডুবিয়ে খুন করল উচ্চশিক্ষিত বাবা

কন্যাসন্তান পরিবারের বোঝা, তেলেঙ্গানায় ৪ বছরের দুই যমজ মেয়েকে জলে ডুবিয়ে খুন করল উচ্চশিক্ষিত বাবা

পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা আর কন্যাসন্তানকে ‘বোঝা’ মনে করার এক চরম নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানার জুবিলি নগর গ্রাম। মাত্র চার বছর বয়সি দুই যমজ কন্যাকে নৃশংসভাবে জলে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাদেরই বাবা শ্রীশৈলমের বিরুদ্ধে। এই হীন চক্রান্তে অভিযুক্তকে সরাসরি মদত দেওয়ার অভিযোগে তার বাবা-মা এবং ছোট ভাইকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্নাতকোত্তর পাশ শ্রীশৈলম প্রথম থেকেই পুত্র সন্তান চেয়েছিল। স্ত্রী মৌনিকা গর্ভবতী থাকাকালীন যমজ কন্যার কথা জানতে পেরে সে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে, যদিও তাতে রাজি হননি স্ত্রী। ২০২২ সালে দুই কন্যার জন্মের পর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। অভিযুক্তের ধারণা ছিল, তার প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি মেয়েদের বিয়েতে খরচ হয়ে যাবে। এই সম্পত্তি রক্ষার অন্ধ লোভে কয়েকমাস ধরেই সপরিবারে খুনের ছক কষছিল সে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রীকে রান্নার কাজে ব্যস্ত রেখে দুই মেয়েকে কৃষি জমির একটি নির্জন কুয়োর কাছে নিয়ে যায় শ্রীশৈলম। সেখানে একে একে দুই শিশুকেই কুয়োর জলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় সে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এক মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও দ্বিতীয় শিশুটি বাঁচার চেষ্টা করছিল। তা দেখে পাষণ্ড বাবা নিজেই কুয়োয় নেমে তাকে জলে ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীদের সন্দেহের মুখে পড়ে অভিযুক্ত শ্রীশৈলম পালিয়ে যায়।

হত্যার পর গোপালপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল মূল অভিযুক্ত শ্রীশৈলম এবং তার সহযোগীরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকেই অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতদের কঠোর শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কন্যাসন্তানদের প্রতি এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা এবং উচ্চশিক্ষিত হয়েও এমন চরম অপরাধমূলক মানসিকতা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *