মহারাষ্ট্রে মহা বিকাশ আঘাড়ী জোটে ফাটল, কংগ্রেসকে স্বার্থপর আখ্যা দিয়ে সামনায় তীব্র আক্রমণ উদ্ধব শিবিরের

মহারাষ্ট্রে মহা বিকাশ আঘাড়ী জোটে ফাটল, কংগ্রেসকে স্বার্থপর আখ্যা দিয়ে সামনায় তীব্র আক্রমণ উদ্ধব শিবিরের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে মহাজোট বা মহা বিকাশ আঘাড়ীর (এমভিএ) অন্দরে সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করেছে। শিবসেনার (ইউবিটি) মুখপত্র ‘সামনা’-তে মিত্রপক্ষ কংগ্রেসকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন উদ্ধব ঠাকরে। কংগ্রেসকে ‘স্বার্থপর’ এবং ‘ঈর্ষাপরায়ণ’ বলে অভিহিত করায় মারাঠা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আসন্ন বিধান পরিষদ নির্বাচনে উদ্ধব ঠাকরের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের শরদ পাওয়ারের এনসিপি সমর্থন জানানোয় এই বিবাদের সূত্রপাত। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সভাপতি হর্ষবর্ধন সপকাল এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে দাবি করেন যে, জোটে কংগ্রেস দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে উদ্ধব শিবির।

‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর কি হাইকম্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেই? শিবসেনা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গত রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় রাজ্য নেতৃত্ব কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এবং হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত শরদ পাওয়ারকেই সমর্থন করেছিল। উদ্ধব শিবিরের দাবি, রাজ্য সভাপতির উচিত দিল্লি গিয়ে নিজের হাইকম্যান্ডকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা।

আঞ্চলিক দলগুলোর গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে শিবসেনা জানিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যে ১০০টি আসন জিতেছে এবং রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা হতে পেরেছেন, তার পেছনে মহারাষ্ট্রের ৩০টি আসনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলোকে সম্মান জানানো হয়েছিল বলেই কংগ্রেস এই সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু বিধানসভা ভোটে মাত্র ১৩টি আসনে জিতে কংগ্রেসের অতি-সক্রিয় মনোভাব জোটের ক্ষতি করেছে বলে সামনায় দাবি করা হয়েছে।

কংগ্রেসকে সতর্ক করে দিয়ে সামনা-তে লেখা হয়েছে যে, আঞ্চলিক দলগুলোকে শুধু জয়ের মাধ্যম বা ‘বৈশাখী’ (লাঠি) হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আঞ্চলিক দলগুলো স্থানীয় সমস্যার মুখপত্র হিসেবে কাজ করে। যারা কেন্দ্রে নজর রাখছেন, তাঁদের উচিত হবে না আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাপ্য সুযোগের দিকে হাত বাড়ানো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারামতী উপনির্বাচনের আবহে এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জাতীয় স্তরে সমর্থন থাকলেও, রাজ্য স্তরে কংগ্রেসের আধিপত্য যে উদ্ধব ঠাকরে মেনে নেবেন না, এই কড়া বার্তার মাধ্যমে তিনি তা স্পষ্ট করে দিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *