১০ পয়সার ওষুধ দেড়শো টাকায়! এমআরপি ও উৎপাদন খরচে ১৫০০ গুণ ফারাক কেন

১০ পয়সার ওষুধ দেড়শো টাকায়! এমআরপি ও উৎপাদন খরচে ১৫০০ গুণ ফারাক কেন

ভারতে রোগীদের সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার মাঝেমধ্যেই আইন সংশোধন করে। তা সত্ত্বেও দেশের বাজারে এমন কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যেখানে ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই দামে ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে ওষুধের বাজারে এক অদ্ভুত বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বিত্তবানদের জন্য একই ওষুধ ভিন্ন মোড়কে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, অথচ হতদরিদ্র মানুষজন বড় ওষুধের দোকানে ঢোকার সাহস পর্যন্ত পান না। তাদের সস্তার জন্য জেনেরিক ওষুধের দোকানে পাঠানো হয়।

সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় ওষুধ নিশ্চিত করতে সরকার প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি কেন্দ্র এবং ‘দাওয়াই ইন্ডিয়া’-র মতো ব্র্যান্ডকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে একটি ভ্রান্ত ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওষুধের দাম যত বেশি হবে তার কার্যকারিতা তত উন্নত এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তত কম হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচিত দ্রুত এই ধরণের মানসিক বিভ্রান্তি দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া।

জনস্বার্থ রক্ষায় একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কেন সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত থাকছে। অনেক সময়ই দেখা যায়, যে মানুষের কণ্ঠস্বর ভিড়ের শব্দে হারিয়ে যায়, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই জাতীয় প্রচার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

ওষুধের বাজারে মূল সমস্যা হলো মুদ্রণ মূল্য বা এমআরপি-র ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা। ১০ পয়সার ওষুধ কেন বাজারে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন খরচ এবং খুচরো বিক্রির মূল্যের মধ্যে ১৫০০ গুণেরও বেশি পার্থক্য কেন থাকবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। মূলত জেনেরিক ওষুধের গায়ে লেখা দামের ওপর কোনো নির্দিষ্ট আইনি রাশ না থাকায় এই অরাজকতা চলছে।

সাধারণ মানুষ কেন ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের ওষুধ পাচ্ছেন না, সেই সত্য উদঘাটন করতেই এই বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ওষুধের চড়া দামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যবসার অন্ধকার দিকটি সামনে আনা এবং প্রশাসনকে সতর্ক করাই এর মূল লক্ষ্য। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পকেট রক্ষার এই লড়াই চলবে যতক্ষণ না ওষুধের বাজারে সমতা ফিরে আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *