পশ্চিমবঙ্গ এসআইআর মামলায় কড়া সুপ্রিম কোর্ট, তিন বিচারপতির প্যানেল গড়ার নির্দেশ হাইকোর্টকে

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) সংক্রান্ত জটিলতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজের তদারকি ও মান নির্ধারণের জন্য তিন সদস্যের একটি প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালগুলোর পরিকাঠামো প্রস্তুত থাকায় দ্রুত কাজ শুরুর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারকদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নতুন অন্তর্ভুক্তির আবেদন নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে জমা পড়া প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ দাবি ও আপত্তির মধ্যে ৫৯.১৫ লক্ষের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং আজ রাতেই ভোটারদের একটি সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
মালদা জেলায় বিচারকদের সাম্প্রতিক হেনস্থার ঘটনার উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতীতে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনই কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে সুস্থ কাজের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে আদালত আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুরো প্রক্রিয়াকে তীব্র আক্রমণ করে নির্বাচন কমিশনকে ‘বর্জন কমিশন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আবেদন জানিয়েছেন যে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিদের ২১ এপ্রিলের মধ্যে ভোটদানের অনুমতি দেওয়া হোক। যদিও এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, পরবর্তী শুনানি ১৩ এপ্রিল দুপুর ৩টেয় ধার্য করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এখন থেকে ডিএম অফিসগুলো অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করবে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটার তালিকার এই ব্যাপক সংশোধন এখন আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ করাই এখন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।