পাইলট উদ্ধার নাকি ইউরেনিয়াম চুরি ইরানে আমেরিকার দুঃসাহসিক অভিযান ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

পাইলট উদ্ধার নাকি ইউরেনিয়াম চুরি ইরানে আমেরিকার দুঃসাহসিক অভিযান ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে আমেরিকার বিশেষ অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তেহরানের দাবি, এক মার্কিন কर्नलকে উদ্ধারের নাম করে আসলে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। ইরান সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, পাইলট উদ্ধারের পুরো বিষয়টিই ছিল একটি সুপরিকল্পিত নাটক এবং এর আড়ালে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য কাজ করেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক এই উদ্ধার অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তেহরান জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলট কোহগিলুয়ে ও বয়ের-আহমদ প্রদেশে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করা হলেও মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক এলাকায় অবতরণ করার চেষ্টা করে। এই এলাকাটি ইরানের স্পর্শকাতর পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর অত্যন্ত নিকটবর্তী। ফলে ইরান মনে করছে, এই অভিযান আসলে ইউরেনিয়াম চুরির একটি ছদ্মবেশ বা ধোঁকা দেওয়ার কৌশল হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানকে সফল ঘোষণা করে জানিয়েছেন, নিখোঁজ এয়ারম্যানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওই কর্মকর্তা গুরুতর আহত অবস্থায় একটি পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। প্রায় দুই দিনের শ্বাসরুদ্ধকর তল্লাশির পর সিআইএ এবং মার্কিন সেনার যৌথ প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

তবে অভিযানের ব্যাপকতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন কথা বলছেন। সিআইএ-র প্রাক্তন কর্মকর্তা ল্যারি জনসনের মতে, ওই যুদ্ধবিমানটি কোনো সাধারণ মিশনে ছিল না। বরং সেটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক চুল্লিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তাঁর ধারণা। এছাড়া মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০০ মাইলেরও বেশি গভীরে ঢুকে পড়েছিল, যা সাধারণ উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন। বিশেষ করে ইসফাহান, কোম এবং নাতাঞ্জের মতো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি মার্কিন সেনার উপস্থিতি রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অভিযানের জন্য মার্কিন সেনারা ইরানের একটি পরিত্যক্ত পুরনো বিমানঘাঁটিও ব্যবহার করেছে। এতে স্পষ্ট যে, এটি কেবল তাৎক্ষণিক কোনো উদ্ধার কাজ ছিল না বরং দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ ছিল। অভিযানের সময় আমেরিকার কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ এখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান এই ‘চুরি’র অভিযোগ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কতটা সরব হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *