বনগাঁর রাজপথে ‘ধামাচামা’ জনস্রোত, বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে রোড শো করলেন পুষ্কর সিং ধামি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রচারের পারদ চড়াতে এবার রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। সোমবার বনগাঁয় বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য রোড শো-তে অংশ নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করেন তিনি। পদ্ম শিবিরের হেভিওয়েট এই নেতার উপস্থিতি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। ধামির এই সফরকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের স্বপন মজুমদার, বনগাঁ উত্তরের অশোক কীর্তনিয়া, বাগদার সোমা ঠাকুর এবং গাইঘাটার সুব্রত ঠাকুরের সমর্থনে প্রচার চালান মুখ্যমন্ত্রী ধামি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে শামিল হয়ে তিনি এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। তার রোড শো-তে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনসভা থেকে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন পুষ্কর সিং ধামি। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় বর্তমান সরকার রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে একটি ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে কাজ করছে। সরকারি ব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং কাটমানি সংস্কৃতি শিকড় গেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ধামির মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ এই অরাজকতা থেকে মুক্তি চাইছেন এবং পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছেন।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী সারা দেশে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং সুশাসনের এক নতুন যুগ শুরু হবে। ধামি দাবি করেন, বনগাঁর রাজপথে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভয় ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
প্রশাসক হিসেবে পুষ্কর সিং ধামির কঠোর ভাবমূর্তি বিজেপির প্রচার কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা, অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ এবং দুর্নীতিবিরোধী আইনের মতো বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। সেই ‘ধাকড়’ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়েই বাংলায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে বিজেপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ধামির এই সফর উত্তর ২৪ পরগনার নির্বাচনি সমীকরণে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে সোমবারের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছাল। বিজেপির নির্বাচনি প্রচারকে আরও গতিশীল করতেই দলীয় নেতৃত্ব উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলায় নিয়ে এসেছেন। এখন দেখার বিষয়, ধামির এই শক্তি প্রদর্শন ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। তবে এদিনের ভিড় শাসক দলের জন্য যে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।