ভোট না দিলে এলাকাছাড়া করার হুঁশিয়ারি, মগরাহাটে ফের বিতর্কে তৃণমূল নেতা ইমরান হাসান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই ফের তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বহরমপুর ও জীবনতলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম ব্লকে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল যুব তৃণমূল সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি জনসভা থেকে তাঁর দেওয়া হুঁশিয়ারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তৃণমূলকে ভোট না দিলে সাধারণ মানুষকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ওই নেতা।
প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় ইমরান হাসান মোল্লা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল ছাড়া অন্য কোথাও যেন কোনো ভোট না পড়ে। যদি এর অন্যথা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পিঠ মেরে ‘বালিশ’ বানিয়ে দেওয়ার এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন তিনি। এর পাশাপাশি সরকারি প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলের সঙ্গে বেইমানি করলে ২০২৬ সালে আর কাউকে ক্ষমা করা হবে না। তাঁর মতে, যারা তৃণমূল করবে না, তাদের সপরিবারে এলাকার বাইরে চলে যাওয়াই উচিত।
তৃণমূল নেতার এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, যারা মানুষকে এলাকাছাড়া করার ভয় দেখাচ্ছে, নির্বাচনের পর তাদেরই পালানোর পথ থাকবে না। অন্যদিকে, শুধু মগরাহাটে নয়, বহরমপুর এবং চুঁচুড়াতেও শাসকদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মুখে একই ধরনের হুমকির সুর শোনা গিয়েছে। কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারির ভয় দেখানো হচ্ছে, আবার কোথাও এজেন্টদের ভোটারদের আঙুলের দিকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদলের নেতাদের এই ধারাবাহিক উস্কানিমূলক মন্তব্যে ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তৃণমূল নেতাদের এই ‘হুমকি-সংস্কৃতি’ সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করতে এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে মগরাহাটের এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।