রাজ্য প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা, মালদা ইস্যুতে মুখ্য সচিবকে সিজিআই-এর তীব্র ভর্ৎসনা ও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

রাজ্য প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা, মালদা ইস্যুতে মুখ্য সচিবকে সিজিআই-এর তীব্র ভর্ৎসনা ও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলার তদন্তভার সরাসরি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ওই ঘটনার সময় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মুখ্য সচিব উড়ানে থাকার অজুহাত দিলেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি এবং তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়। সিজিআই মন্তব্য করেন যে, রাজ্যের আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং সরকারি কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, মালদার ওই ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং প্ররোচনামূলক। গত ১ এপ্রিল ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ মেলায় মামলাটি এনআইএ-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ইতিপূর্বে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা সমস্ত এফআইআর এখন থেকে এনআইএ খতিয়ে দেখবে। কেন্দ্রীয় এই সংস্থাকে প্রয়োজনে নতুন করে এফআইআর দায়ের করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধৃত ২৬ জনকে এনআইএ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এনআইএ-কে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এর আগে গত ২ এপ্রিল আদালত বিচারকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল। এদিনের শুনানির পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *