মালদহ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ তদন্তভার গেল এনআইএ-র হাতে

মালদহ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ তদন্তভার গেল এনআইএ-র হাতে

পশ্চিমবঙ্গের মালদহে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও বন্দি করার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি এফআইআর-এর তদন্তভার রাজ্য পুলিশের থেকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র হাতে হস্তান্তর করতে হবে। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এদিন এনআইএ-র পক্ষ থেকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানায়, ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্য়েই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য পুলিশকে সমস্ত কেস ডায়েরি ও নথি দ্রুত এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে। তদন্ত চলাকালীন আরও কোনও অপরাধ বা অপরাধীর যোগসূত্র পাওয়া গেলে এনআইএ-কে নতুন করে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব ও পুলিশ মহানির্দেশককে (ডিজিপি) তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় মুখ্য সচিবের তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, এই ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই অনড় ও হঠকারী মনোভাবের কারণেই রাজ্যে অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে।

মুখ্য বিচারপতি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল, যেখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশকে হেফাজতে থাকা ২৬ জন সন্দেহভাজনকেও এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, আদালত আশা প্রকাশ করেছে যে রাজ্যের শীর্ষ আমলারা ভবিষ্যতে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন। এই মুহূর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলেও প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এখন থেকে মামলার গতিপ্রকৃতি সংক্রান্ত সমস্ত রিপোর্ট কলকাতার এনআইএ আদালতে পেশ করা হবে এবং সুপ্রিম কোর্টকেও নিয়মিত সময় অন্তর স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *