রাহুল গান্ধীর পেট্রোল রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক অমিত শাহ, পুদুচেরিতে এনডিএর জয় নিশ্চিত বলে দাবি

পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন মন্নাদিপেট বিধানসভা কেন্দ্রে এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী পাকিস্তানের জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করে দেশবাসীর মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। শাহের মতে, বিরোধীরা কেবল মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়, যেখানে মোদী সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জনসভায় অমিত শাহ বলেন, দুদিন আগে রাহুল গান্ধী এখানে এসে দাবি করেছিলেন যে উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে ভারতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। রাহুল গান্ধীকে পাল্টা তোপ দেগে শাহ জানান, যে বিপুল দামের কথা রাহুল বলছেন তা আসলে পাকিস্তানে কার্যকর হয়েছে, ভারতে নয়। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের সাধারণ মানুষ সঠিক সময়ে সাশ্রয়ী মূল্যে পেট্রোল ও ডিজেল পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইন্ডিয়া জোটের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরোধীদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। নির্বাচনের আগেই এই জোটের শরিকরা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সিপিআই এবং সিপিআইএম ইতিমধ্যেই এই জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। এমনকি ডিএমকে এবং কংগ্রেস পুদুচেরির পাঁচটি আসনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই অভ্যন্তরীণ কলহই প্রমাণ করে যে বিরোধীরা জনগণের উন্নয়ন নয়, বরং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত।
অন্যদিকে এনডিএ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে লড়াই করছে বলে দাবি করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট কেবল ক্ষমতায় আসার জন্য নয়, বরং পুদুচেরির সামগ্রিক বিকাশের জন্য কাজ করছে। বিরোধীদের বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে এনডিএ একটি সুস্থ ও উন্নত জনজীবন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনগণ এই অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দেবেন বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পুদুচেরির স্থানীয় মানুষের স্বার্থে শাহ বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মৎস্যজীবীদের ফিশিং ভ্যানের আর্থিক সহায়তা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হবে। এছাড়াও পিএম-কিষাণ প্রকল্পের অধীনে বার্ষিক সহায়তা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রতিটি মহিলা কৃষককে একটি করে দুগ্ধবতী গাভী প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।